ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পদ্মায় নৌকা ডুবি: শিশুসহ ১০ জনকে উদ্ধার করল বিএসএফ, নিখোঁজ ১ ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতার আহ্বান জেলা প্রশাসকের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম গোমস্তাপুর উপজেলা ও রহনপুর পৌর শাখার আহবায়ক কমিটি গঠন ​ ডেঙ্গু বাড়ার জন্য ঠিকাদারদের দায়ী করলেন বিএনপি নেতা ওবায়েদ পাঠান পাঠানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা ধ্বংসের ক্রাশ প্রোগ্রাম পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালানোর চেষ্টা স্বামী আটক। দিনাজপুরের খানসামায় একদিনে দুই গুদামে অভিযান, ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ: ৯০ হাজার টাকা জরিমানা বিরামপুরে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করে ভোটার হওয়ার চেষ্টায় আটক-২ রাজশাহীতে হজকিন লিম্ফোমার আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে বৈজ্ঞানিক সেমিনার হিউম্যানিটি ফাইটার্স অব গোলাবাড়ি নামে নাচোলে আত্মপ্রকাশ করল স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালানোর চেষ্টা স্বামী আটক।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ স্টাফ রিপোর্টার

​গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রাইভেটকারে মুমূর্ষু স্ত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করতেই মরদেহ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়ামকে আটক করেছে পুলিশ।
​বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ করতে পারেন) রাত ৮টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান।
​নিহত শাহিনা আক্তার (২২) সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে এবং পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে।
​পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় স্ত্রী শাহিনাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ইসিজি পরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে সিয়াম দ্রুত গাড়ি চালিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা তাকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে।
​হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক হৃদয় মণ্ডল জানান, চিকিৎসক নারীকে মৃত ঘোষণার পরপরই সিয়ামের আচরণে উপস্থিত সবার সন্দেহ হয়। এরপরই তিনি দ্রুত প্রাইভেটকার নিয়ে পালিয়ে যান।
​নিহত শাহিনার মা রহিমা বেগমের অভিযোগ, সিয়াম মাদকাসক্ত ছিলেন এবং বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও পারিবারিক নানা কারণে শাহিনাকে নির্যাতন করতেন। মারধরের কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে দাবি করে তিনি একে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন। একই অভিযোগ করে শাহিনার চাচা মাজিদুর রহমান বলেন, প্রেম করে বিয়ের পর তাদের সংসারে আয়াশ (৪) ও আয়াত (১) নামের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ইতিপূর্বে একাধিকবার সালিশ হলেও সিয়ামের নির্যাতন থামেনি।
​স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শাহিনার মৃত্যু হয়েছিল। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
​পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহালে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের দাগ ও গলায় ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ বা গলায় ফাঁস দেওয়ার আলামত ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালানোর চেষ্টা স্বামী আটক।

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ স্টাফ রিপোর্টার

​গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রাইভেটকারে মুমূর্ষু স্ত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করতেই মরদেহ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়ামকে আটক করেছে পুলিশ।
​বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ করতে পারেন) রাত ৮টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান।
​নিহত শাহিনা আক্তার (২২) সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে এবং পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামী মোরসেলিম আকাশ সিয়াম উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে।
​পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সিয়াম নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় স্ত্রী শাহিনাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ইসিজি পরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে সিয়াম দ্রুত গাড়ি চালিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাকে থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা তাকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে।
​হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক হৃদয় মণ্ডল জানান, চিকিৎসক নারীকে মৃত ঘোষণার পরপরই সিয়ামের আচরণে উপস্থিত সবার সন্দেহ হয়। এরপরই তিনি দ্রুত প্রাইভেটকার নিয়ে পালিয়ে যান।
​নিহত শাহিনার মা রহিমা বেগমের অভিযোগ, সিয়াম মাদকাসক্ত ছিলেন এবং বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও পারিবারিক নানা কারণে শাহিনাকে নির্যাতন করতেন। মারধরের কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে দাবি করে তিনি একে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন। একই অভিযোগ করে শাহিনার চাচা মাজিদুর রহমান বলেন, প্রেম করে বিয়ের পর তাদের সংসারে আয়াশ (৪) ও আয়াত (১) নামের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ইতিপূর্বে একাধিকবার সালিশ হলেও সিয়ামের নির্যাতন থামেনি।
​স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শাহিনার মৃত্যু হয়েছিল। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
​পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহালে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের দাগ ও গলায় ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ বা গলায় ফাঁস দেওয়ার আলামত ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।