দিনাজপুরের খানসামায় একদিনে দুই গুদামে অভিযান, ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ: ৯০ হাজার টাকা জরিমানা
- আপডেট সময় : ০৩:৪৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের খানসামায় একদিনে দুই সার ডিলারকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৬৫৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।
মাঠে সার সংকট অথচ গুদামে পরে আছে সার এমন অভিযোগের মধ্যেই খানসামায় সার ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন।
একদিনে উপজেলার দুটি সার ডিলারের গুদামে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয়েছে ৬৫৭ বস্তা রাসায়নিক সার। একই সঙ্গে দুই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পাকেরহাট ও টংগুয়া বাজার এলাকায় উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়।
অভিযানে প্রথমে পাকেরহাটের ‘মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্স’-এর গুদামে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মহিতোষ চন্দ্র চন্দ একজন বিএডিসি নিবন্ধিত সার ডিলার। প্রশাসনের অভিযানে তাঁর গুদামে অনুমোদিত সীমার বাইরে মজুত রাখা ৪৫০ বস্তা সার পাওয়া যায়।
এর মধ্যে নোয়াপাড়া গ্রুপের ক্রয় করা ৩০০ বস্তা মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি), বিএডিসি গ্রুপের ৫০ বস্তা এমওপি এবং ১০০ বস্তা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) রয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত মহিতোষ চন্দকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
এরপর টংগুয়া বাজারের বিসিআইসি অনুমোদিত রাসায়নিক সার ডিলার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্স’-এ। সেখানেও মেলে বিপুল পরিমাণ সার।
অভিযান সূত্রে জানায়, উক্ত প্রতিষ্ঠানটির ডিলার আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ডিলার পয়েন্টটি পরিচালনা করছিলেন। অভিযানে গুদাম থেকে ২০৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৯৪ বস্তা ডিএপি, ৫৫ বস্তা ইউরিয়া ও ৫৮ বস্তা এমওপি সার রয়েছে।
অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত নজরুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
দুটি অভিযানে জব্দ করা মোট ৬৫৭ বস্তা সার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয় এবং খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ও সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের লক্ষ্য। কোনো ডিলার অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে কিংবা কৃষকদের হয়রানি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিতভাবে সার ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে তদারকি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।##
