ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাচোলে কৃষকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ রাতের আঁধারে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার আমের গাছ ও পেঁপে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ *দিনাজপুরে প্রহরীকে হত্যা, ঘাতক গ্রেফতার* চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানিক- কথিত সাংবাদিক এসএম রুবেরসহ গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরিয়ার এজেন্সি থেকে ২ কেজি কথিত হেরোইন উদ্ধার মনাকষা সীমান্তে ৩৫ তরুণকে মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ৫৩ বিজিবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মতবিনিময় সভা, সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জেলা প্রশাসকের *দিনাজপুরে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার* দিনাজপুরের পার্বতীপুরে শিক্ষক কে পিটিয়ে হত্যা: একজন আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১২ কেজি ৬৫০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

মাঠের অভাব ও প্রযুক্তির প্রভাব: দিনে দিনে আড়ালে চলে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হাডুডু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :

নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলার চর্চা। দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়নের ভার্ণাপাড়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আগে নিয়মিত হাডুডু খেলার আয়োজন করা হলেও বর্তমানে মাঠের সংকোচন, বসতবাড়ি নির্মাণ এবং তরুণদের মোবাইল ফোন ও অনলাইন নির্ভরতার কারণে মাঠে খেলাধুলার উপস্থিতি কমে এসেছে।
ভার্ণাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আগে বিকেলের দিকে তরুণেরা হাডুডু খেললেও এখন তাদের সিংহভাগ সময় কাটছে মোবাইল ফোনে। প্রবীণ হাডুডু খেলোয়াড় মো. জাহেদুল ইসলাম ও মো. খলিলুর রহমান জানান, খেলার প্রতি আগ্রহ থাকলেও নিয়মিত মাঠ, সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও প্রতিদান না থাকায় এবং সামাজিক আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে নতুন প্রজন্ম এ খেলায় উদ্বুদ্ধ হচ্ছে না।
শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সংগঠকদের মতে, হাডুডু কেবল শরীরচর্চায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আন্তঃগ্রাম যোগাযোগ ও সামাজিক সৌহার্দ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখত। স্থানীয় শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভরতা কাটিয়ে শিশু-কিশোরদের সামাজিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে ঐতিহ্যবাহী খেলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক মো. আনোয়ার হোসেন উল্লেখ করেন, খেলাটি টিকিয়ে রাখতে হলে কেবল বার্ষিক আয়োজনের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জানান, গ্রামীণ খেলাধুলা টিকিয়ে রাখার জন্য পরিকল্পিত প্রতিযোগিতা আয়োজন ও মাঠ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিতে স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ রুবানা তানজিন জানান, হাডুডুসহ গ্রামীণ খেলা সংরক্ষণে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাডুডুকে টিকিয়ে রাখতে মাঠ সংরক্ষণ, বিদ্যালয় পর্যায়ে উৎসাহ প্রদান এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মাঠের অভাব ও প্রযুক্তির প্রভাব: দিনে দিনে আড়ালে চলে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হাডুডু

আপডেট সময় : ০১:৩৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬


আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :

নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলার চর্চা। দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়নের ভার্ণাপাড়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আগে নিয়মিত হাডুডু খেলার আয়োজন করা হলেও বর্তমানে মাঠের সংকোচন, বসতবাড়ি নির্মাণ এবং তরুণদের মোবাইল ফোন ও অনলাইন নির্ভরতার কারণে মাঠে খেলাধুলার উপস্থিতি কমে এসেছে।
ভার্ণাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আগে বিকেলের দিকে তরুণেরা হাডুডু খেললেও এখন তাদের সিংহভাগ সময় কাটছে মোবাইল ফোনে। প্রবীণ হাডুডু খেলোয়াড় মো. জাহেদুল ইসলাম ও মো. খলিলুর রহমান জানান, খেলার প্রতি আগ্রহ থাকলেও নিয়মিত মাঠ, সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও প্রতিদান না থাকায় এবং সামাজিক আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে নতুন প্রজন্ম এ খেলায় উদ্বুদ্ধ হচ্ছে না।
শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সংগঠকদের মতে, হাডুডু কেবল শরীরচর্চায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আন্তঃগ্রাম যোগাযোগ ও সামাজিক সৌহার্দ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখত। স্থানীয় শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম মনে করেন, প্রযুক্তিনির্ভরতা কাটিয়ে শিশু-কিশোরদের সামাজিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে ঐতিহ্যবাহী খেলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক মো. আনোয়ার হোসেন উল্লেখ করেন, খেলাটি টিকিয়ে রাখতে হলে কেবল বার্ষিক আয়োজনের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জানান, গ্রামীণ খেলাধুলা টিকিয়ে রাখার জন্য পরিকল্পিত প্রতিযোগিতা আয়োজন ও মাঠ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিতে স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ রুবানা তানজিন জানান, হাডুডুসহ গ্রামীণ খেলা সংরক্ষণে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাডুডুকে টিকিয়ে রাখতে মাঠ সংরক্ষণ, বিদ্যালয় পর্যায়ে উৎসাহ প্রদান এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।