ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০ ককটেল ও সাড়ে ৪ কেজি বারুদ সদৃশ পদার্থ উদ্ধার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার বিশেষ অভিযান নারায়ণপুরে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন জেলা প্রশাসক চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৮ মাসে ৭০ আত্মহত্যা, পরিবার-সমাজকে সচেতন হওয়ার আহ্বান পুলিশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিবন্দি ৫টি ইউনিয়নের পাঁচ হাজার মানুষ, বন্ধ ২৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাত রোধে বিএমডিএ’র মহতি উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষায় পরিবেশবান্ধব গ্রাম ঘোষণা দিনাজপুর বিসিকে ২২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা দিনাজপুরে বজ্রপাত নিরোধনে তালগাছের চারা রোপন শিবগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

দিনাজপুরে তীব্র লোডশেডিং: ব্যবসায়িক ক্ষতি ও জনভোগান্তির পাশাপাশি ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বিক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :

দিনাজপুর জেলা জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির কারণে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। দৈনিক চার থেকে পাঁচবার, এমনকি কোনো কোনো এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু কিছু এলাকায় দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম।
নেসকো-২ (বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা): যেখানে প্রতিদিনের চাহিদা ২৮ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৮ থেকে ২০ মেগাওয়াট।
নেসকো-১: ২১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সর্বনিম্ন ১৬.৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে।
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (৫টি উপজেলা): ১২০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলছে মাত্র ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট।
চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এই বড় ধরনের পার্থক্যের কারণে বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। দিনাজপুর একটি প্রধান চাল উৎপাদনকারী অঞ্চল হওয়ায় সেখানকার রাইস মিলগুলো বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে মিলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এই প্রভাব চালের উৎপাদন ও বাজারদরের ওপর পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দিনের পর দিন বিদ্যুতের এই তীব্র সংকট চলতে থাকায় চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১ আগস্ট রাতে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে আফতাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এরিয়া অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। পরবর্তীতে গত ১১ আগস্ট নবাবগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে একদল বিক্ষুব্ধ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর চালান।
বর্তমানে বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে সরবরাহ বৃদ্ধি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দিনাজপুরে তীব্র লোডশেডিং: ব্যবসায়িক ক্ষতি ও জনভোগান্তির পাশাপাশি ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :

দিনাজপুর জেলা জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির কারণে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। দৈনিক চার থেকে পাঁচবার, এমনকি কোনো কোনো এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু কিছু এলাকায় দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম।
নেসকো-২ (বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা): যেখানে প্রতিদিনের চাহিদা ২৮ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৮ থেকে ২০ মেগাওয়াট।
নেসকো-১: ২১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সর্বনিম্ন ১৬.৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে।
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (৫টি উপজেলা): ১২০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলছে মাত্র ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট।
চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এই বড় ধরনের পার্থক্যের কারণে বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। দিনাজপুর একটি প্রধান চাল উৎপাদনকারী অঞ্চল হওয়ায় সেখানকার রাইস মিলগুলো বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে মিলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এই প্রভাব চালের উৎপাদন ও বাজারদরের ওপর পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দিনের পর দিন বিদ্যুতের এই তীব্র সংকট চলতে থাকায় চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১ আগস্ট রাতে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে আফতাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এরিয়া অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। পরবর্তীতে গত ১১ আগস্ট নবাবগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে একদল বিক্ষুব্ধ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর চালান।
বর্তমানে বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে সরবরাহ বৃদ্ধি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ জনগণ।