ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাত রোধে বিএমডিএ’র মহতি উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষায় পরিবেশবান্ধব গ্রাম ঘোষণা দিনাজপুর বিসিকে ২২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা দিনাজপুরে বজ্রপাত নিরোধনে তালগাছের চারা রোপন শিবগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ‎পালংখালীতে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী সামাজিক সংগঠন ‘প্রত্যয়’-এর ৬ সদস্যের প্রাথমিক কমিটি গঠিত। শিবগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির দুই স্বাক্ষরে প্রকাশিত কমিটি বাতিল রাজশাহী রেঞ্জের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই পুলিশ কর্মকর্তা শ্রেষ্ঠ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যার্ত ১২০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

দিনাজপুর বিসিকে ২২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :

প্রতিষ্ঠার ৬৪ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি দিনাজপুরের বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরী। প্রায় ২২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হলেও শিল্প এলাকায় এখনো নেই সীমানা প্রাচীর ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও দুর্বল। বর্ষায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এসব সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন উদ্যোক্তারা। নতুন উদ্যোক্তারাও এখানে শিল্প স্থাপনে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
দিনাজপুর শহরের পুলহাট এলাকায় ৩৫ দশমিক ১৪ একর জমির ওপর ১৯৬২ সালে ৪৫ দশমিক ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭২ সালে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হয়। প্রতিষ্ঠাকালে ১৮৯টি শিল্প প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্লটের আয়তন ২৮ দশমিক ৭৪ একর।
বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শিল্পনগরীতে ৫৪টি শিল্প ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ৫২টি উৎপাদনে রয়েছে। ব্যাংকঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর ঋণখেলাপি হওয়া এবং আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় মেসার্স হাবিবা এ্যালুমিনিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেড ও মেসার্স রুপন ওয়েল অ্যান্ড ফিডস (প্রা.) লিমিটেড বন্ধ রয়েছে।
শিল্পনগরীতে খাদ্যজাত শিল্প, চালকল, ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল, বনজ, বেকারি, সিলভার, স্বয়ংক্রিয় ময়দা তৈরির কারখানা এবং ডাল-তেল মিলসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প রয়েছে।
প্লটের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ১৫ হাজার বর্গফুটের এ-টাইপ প্লট রয়েছে ৩৩টি, ৯ হাজার বর্গফুটের বি-টাইপ ৪২টি, সাড়ে ৪ হাজার বর্গফুটের সি-টাইপ ৬৪টি এবং ২ হাজার ২৫০ বর্গফুটের ডি-টাইপ প্লট রয়েছে ৬৫টি।
বিসিকের হিসাব অনুযায়ী, শিল্পনগরীতে প্রায় ৪ হাজার ৮২৫ শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৩৭৭ এবং নারী ১ হাজার ৪৪৮ জন। শিল্প ইউনিটগুলোতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২২৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকা এবং বছরে মোট উৎপাদনের মূল্য ৩০২ দশমিক ৫৮ কোটি টাকা।
শিল্পনগরী থেকে বিভিন্ন খাতে সরকারের বার্ষিক আয় ২০১ দশমিক ৫৪ লাখ টাকা বলে বিসিকের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর ও ভ্যাট ১৬৫ লাখ টাকা, টেলিফোন ০ দশমিক ০৩ লাখ, বিদ্যুৎ ১ দশমিক ৩৫ লাখ, ভূমি উন্নয়ন কর ৪ দশমিক ২৬ লাখ, পৌর কর ০ দশমিক ৯০ লাখ এবং সার্ভিস চার্জ ও হস্তান্তর ফি বাবদ ৩০ লাখ টাকা রয়েছে।
এত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিপরীতে অবকাঠামোগত দুর্বলতাই এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্প এলাকায় সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় বর্ষাকালে পানি জমে যায়। এতে শ্রমিকদের চলাচলের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য আনা-নেওয়ায়ও ভোগান্তি হয়।
শিল্প এলাকার চারপাশে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার অভিযোগও রয়েছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, শিল্পনগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিয়মিত সেবা নিশ্চিত না হলে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনাও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রতি বছর প্রতি বর্গফুটে ৩ টাকা ৫০ পয়সা সার্ভিস চার্জের সঙ্গে ভ্যাট ও খাজনা মিলিয়ে মোট ৪ টাকা ৩১ পয়সা পরিশোধ করতে হয়। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না।
দিনাজপুর চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান সরকার বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানে বিসিককে উদ্যোগ নিতে হবে।
দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি, আস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অটো রাইস মিল মালিক আলহাজ মো. আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, বছরে বছরে সার্ভিস চার্জ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নতুন উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। কাঙ্ক্ষিত সেবা ও সরকারি সহযোগিতা ছাড়া নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব নয়।
তবে বিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাহেদুল ইসলাম সীমানা প্রাচীর না থাকা, রাস্তা, ড্রেন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, শিল্পনগরীটি সংস্কার করা প্রয়োজন। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দের প্রাক্কলন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা হবে।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রশ্ন, ছয় দশকের বেশি সময় ধরে শিল্পনগরীতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়লেও মৌলিক অবকাঠামো ও সেবার ঘাটতি কেন কাটছে না। তাদের মতে, বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করা গেলে দিনাজপুর বিসিক শুধু পুরোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার জায়গা নয়, নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দিনাজপুর বিসিকে ২২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা

আপডেট সময় : ১২:৪২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :

প্রতিষ্ঠার ৬৪ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি দিনাজপুরের বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরী। প্রায় ২২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হলেও শিল্প এলাকায় এখনো নেই সীমানা প্রাচীর ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও দুর্বল। বর্ষায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এসব সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন উদ্যোক্তারা। নতুন উদ্যোক্তারাও এখানে শিল্প স্থাপনে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
দিনাজপুর শহরের পুলহাট এলাকায় ৩৫ দশমিক ১৪ একর জমির ওপর ১৯৬২ সালে ৪৫ দশমিক ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭২ সালে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হয়। প্রতিষ্ঠাকালে ১৮৯টি শিল্প প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্লটের আয়তন ২৮ দশমিক ৭৪ একর।
বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শিল্পনগরীতে ৫৪টি শিল্প ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ৫২টি উৎপাদনে রয়েছে। ব্যাংকঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর ঋণখেলাপি হওয়া এবং আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় মেসার্স হাবিবা এ্যালুমিনিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেড ও মেসার্স রুপন ওয়েল অ্যান্ড ফিডস (প্রা.) লিমিটেড বন্ধ রয়েছে।
শিল্পনগরীতে খাদ্যজাত শিল্প, চালকল, ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল, বনজ, বেকারি, সিলভার, স্বয়ংক্রিয় ময়দা তৈরির কারখানা এবং ডাল-তেল মিলসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প রয়েছে।
প্লটের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ১৫ হাজার বর্গফুটের এ-টাইপ প্লট রয়েছে ৩৩টি, ৯ হাজার বর্গফুটের বি-টাইপ ৪২টি, সাড়ে ৪ হাজার বর্গফুটের সি-টাইপ ৬৪টি এবং ২ হাজার ২৫০ বর্গফুটের ডি-টাইপ প্লট রয়েছে ৬৫টি।
বিসিকের হিসাব অনুযায়ী, শিল্পনগরীতে প্রায় ৪ হাজার ৮২৫ শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৩৭৭ এবং নারী ১ হাজার ৪৪৮ জন। শিল্প ইউনিটগুলোতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২২৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকা এবং বছরে মোট উৎপাদনের মূল্য ৩০২ দশমিক ৫৮ কোটি টাকা।
শিল্পনগরী থেকে বিভিন্ন খাতে সরকারের বার্ষিক আয় ২০১ দশমিক ৫৪ লাখ টাকা বলে বিসিকের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর ও ভ্যাট ১৬৫ লাখ টাকা, টেলিফোন ০ দশমিক ০৩ লাখ, বিদ্যুৎ ১ দশমিক ৩৫ লাখ, ভূমি উন্নয়ন কর ৪ দশমিক ২৬ লাখ, পৌর কর ০ দশমিক ৯০ লাখ এবং সার্ভিস চার্জ ও হস্তান্তর ফি বাবদ ৩০ লাখ টাকা রয়েছে।
এত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিপরীতে অবকাঠামোগত দুর্বলতাই এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্প এলাকায় সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় বর্ষাকালে পানি জমে যায়। এতে শ্রমিকদের চলাচলের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য আনা-নেওয়ায়ও ভোগান্তি হয়।
শিল্প এলাকার চারপাশে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার অভিযোগও রয়েছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, শিল্পনগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিয়মিত সেবা নিশ্চিত না হলে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনাও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রতি বছর প্রতি বর্গফুটে ৩ টাকা ৫০ পয়সা সার্ভিস চার্জের সঙ্গে ভ্যাট ও খাজনা মিলিয়ে মোট ৪ টাকা ৩১ পয়সা পরিশোধ করতে হয়। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না।
দিনাজপুর চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান সরকার বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানে বিসিককে উদ্যোগ নিতে হবে।
দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি, আস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অটো রাইস মিল মালিক আলহাজ মো. আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, বছরে বছরে সার্ভিস চার্জ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নতুন উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। কাঙ্ক্ষিত সেবা ও সরকারি সহযোগিতা ছাড়া নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব নয়।
তবে বিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাহেদুল ইসলাম সীমানা প্রাচীর না থাকা, রাস্তা, ড্রেন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, শিল্পনগরীটি সংস্কার করা প্রয়োজন। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দের প্রাক্কলন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা হবে।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রশ্ন, ছয় দশকের বেশি সময় ধরে শিল্পনগরীতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়লেও মৌলিক অবকাঠামো ও সেবার ঘাটতি কেন কাটছে না। তাদের মতে, বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করা গেলে দিনাজপুর বিসিক শুধু পুরোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার জায়গা নয়, নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।