ঢাকা ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাচোলে কৃষকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ রাতের আঁধারে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার আমের গাছ ও পেঁপে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ *দিনাজপুরে প্রহরীকে হত্যা, ঘাতক গ্রেফতার* চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানিক- কথিত সাংবাদিক এসএম রুবেরসহ গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরিয়ার এজেন্সি থেকে ২ কেজি কথিত হেরোইন উদ্ধার মনাকষা সীমান্তে ৩৫ তরুণকে মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ৫৩ বিজিবি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মতবিনিময় সভা, সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জেলা প্রশাসকের *দিনাজপুরে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার* দিনাজপুরের পার্বতীপুরে শিক্ষক কে পিটিয়ে হত্যা: একজন আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১২ কেজি ৬৫০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

শিবগঞ্জে পদ্মার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


এনামুল হক নাসিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের জাইটপাড়া গ্রামের পদ্মা নদীর তীরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদী তীরবর্তী এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রতিবছর পদ্মা নদীর ভাঙনে নদী তীরবর্তী মানুষকে বসতবাড়ি সরিয়ে নিতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, ভাঙন ঠেকাতে প্রতিবছর সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এতে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। নদীর ভাঙন থেকে মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা। জাইটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, “২২ বিঘা জমিতে ফসল চাষ করে পরিবার চালাতাম। নদীভাঙনে আমার পুরো ২২ বিঘা ফসলি জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এখন কোনো উপায় না পেয়ে হরেক মালের ব্যবসা করছি। আমরা এখনও নদীর তীরেই বসবাস করছি। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে আমাদের বসতবাড়িও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব বলেন, “শিবগঞ্জের পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এর মধ্যে যেসব স্থানে বেশি ভাঙন দেখা দেবে, সেখানে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থাও নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।” শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “পদ্মা নদীর ভাঙনে নদী তীরবর্তী মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসন সবসময় রয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” মানববন্ধন থেকে পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নদী তীরবর্তী মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে আগামী দিনে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ এখনই নেওয়া প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শিবগঞ্জে পদ্মার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১২:০২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এনামুল হক নাসিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের জাইটপাড়া গ্রামের পদ্মা নদীর তীরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদী তীরবর্তী এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রতিবছর পদ্মা নদীর ভাঙনে নদী তীরবর্তী মানুষকে বসতবাড়ি সরিয়ে নিতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, ভাঙন ঠেকাতে প্রতিবছর সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এতে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। নদীর ভাঙন থেকে মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা। জাইটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, “২২ বিঘা জমিতে ফসল চাষ করে পরিবার চালাতাম। নদীভাঙনে আমার পুরো ২২ বিঘা ফসলি জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এখন কোনো উপায় না পেয়ে হরেক মালের ব্যবসা করছি। আমরা এখনও নদীর তীরেই বসবাস করছি। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে আমাদের বসতবাড়িও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব বলেন, “শিবগঞ্জের পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এর মধ্যে যেসব স্থানে বেশি ভাঙন দেখা দেবে, সেখানে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থাও নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।” শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “পদ্মা নদীর ভাঙনে নদী তীরবর্তী মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসন সবসময় রয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” মানববন্ধন থেকে পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নদী তীরবর্তী মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে আগামী দিনে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ এখনই নেওয়া প্রয়োজন।